ভারতে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করায় ঢাকা থেকে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের চাপ বেড়েছে। ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবেলায় বাংলাদেশ থেকে কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এরই অংশ হিসেবে ২৭ এপ্রিল সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে শুরু হচ্ছে কার্গো পরিবহন। চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেও কার্গো পরিবহনের জন্য প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছে বেবিচক।
বর্তমানে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশের সিংহভাগ কার্গো পরিবহন কার্যক্রম চলে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় ৩৫টি এয়ারলাইনস ফ্লাইট পরিচালনা করে, যার প্রায় সবাই বেলি কার্গো (লাগেজ রাখার জায়গায় পণ্য পরিবহন) সুবিধা দেয়। এর বাইরে এমিরেটস, কাতার, টার্কিশ, সাউদিয়া ও ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারলাইনস আলাদা করে কার্গো পরিবহন করে। ঢাকা থেকে বছরে গড়ে ২ লাখ ১০ হাজার টন পণ্য এ ব্যবস্থায় রফতানি হয় বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
ভারতে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের চাহিদা বাড়ায় কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্গো পরিচালক শাকিল মিরাজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নেয়ার অপেক্ষায় আছি। আমাদের সক্ষমতা এবং ব্যবসায়ীদের খরচের বিষয়টা মাথায় রেখেই কাজটা করা হচ্ছে। সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ঢাকার পাশাপাশি ২৭ এপ্রিল সিলেট বিমানবন্দর থেকে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকেও কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের সংস্থান করা হবে। তিন মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম থেকেও কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে আমাদের।’
সিলেট থেকে কার্গো ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে গত শুক্রবার সিলেট বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া। এ সময় ২৭ এপ্রিলের মধ্যে টার্মিনালের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। সিলেটের কার্গো টার্মিনাল অত্যাধুনিক উল্লেখ করে মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া বলেন, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর আগে আমাদের বিদ্যমান অবকাঠামো শিগগিরই দুই-তিন গুণ বেশি কার্গো পরিচালনা করবে।’
বেবিচক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ক্যাটাগরি ১-এ উন্নীত হয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের (আইকাও) একটি প্রতিনিধি দল বিমানবন্দর দুটি পরিদর্শন করে এ ঘোষণা দেয়। ফলে এ দুটি বিমানবন্দর দিয়ে কার্গো ফ্লাইট চালু হলে একদিকে যেমন রফতানিকারকদের ভোগান্তি কমবে, তেমনি বাড়তি অর্থ খরচের হাত থেকেও রক্ষা পাবেন তারা। পাশাপাশি পণ্য দ্রুত আমদানিকারক দেশে পৌঁছানো যাবে।